কথা বলুন ডঃ কামাল >> মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন

কথা বলুন ব্যারিস্টার ডঃ কামাল হোসেন। আপনি আমাদের রহস্যাবৃত অনেক ইতিহাসে একমাত্র জীবিত সাক্ষী। মহান আল্লাহ আপনাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন হয়তো আমাদের সেই গোপন ইতিহাস জাতি ও দুনিয়াবাসীকে জানানোর জন্য। আমাদেরকে জানান সেই ইতিহাস । এটা আপনার জাতীয় ও  নৈতিক দায়িত্ব।

আমাদের জাতির মহাদুর্দিনে আপনি বঙ্গবন্ধুর একান্ত সাথী ছিলেন। স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরেও আমাদের জাতীয় জীবনের সেই মহাসংকটে  ২৫ মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধু ও আপনি কেন এবং কীভাবে পাকিস্তানে গেলেন? পাকিস্তানী বাহিনী কী বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করেছিল নাকি তিনি স্বেচ্ছায় পাকিস্তানীদের কাছে ধরা দিয়েছিলেন? নাকি তিনি বুঝাপড়ার মাধ্যমে পাকিস্তান গিয়েছিলেন ? মুক্তিযুদ্ধের নয়মাস বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যদের তার বাসভবনে কোন কারণে একেবারেই নিরাপদে ছিলেন? আওয়ামী লীগে আপনার চেয়েও সিনিয়র নেতা থাকতে বঙ্গবন্ধু কেন আপনাকে তার সঙ্গী হিসেবে পাকিস্তান নিয়ে গেলেন? পাকিস্তান কেন তার বিচার করেনি? কী বুঝাপড়ার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান  থেকে ফিরলেন? পাকিস্তান ভেঙ্গে যাবার পরেও পাকিস্তান সরকার কেন বঙ্গবন্ধুকে নিরাপদে লন্ডন পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দিয়েছিল? ২৫ মার্চ রাতে ঢাকা থেকে পাকিস্তানগামী এবং ৮ জানুয়ারী রাওয়ালপিন্ডি থেকে ওই বিমানে আপনি, আপনার স্ত্রী ও দুই সন্তানও তার সাথে ছিলেন। বিদায়কালে ওই বিমানে বঙ্গবন্ধু ভূট্টোর সাথে কেমন আচরণ করেছিলেন?  এইসব প্রশ্ন এবং এই ধরনের হাজারো প্রশ্নের জবার আপনার জানা আছে। কারণ আপনি সব দেখেছেন, শুনেছেন। তাই আপনি দয়া করে মুখ খুলুন। আমাদের জাতীয় ইতিহাসের সত্যিকার কাহিনী বলুন। আমাদের জাতি ওই ইতিহাস জানতে চায়।

আপনি অবশ্যই পাকিসানের তৎকালীন এয়ার ভাইস মার্শাল মরহুম জাফর এ. চৌধুরীকে চেনেন। বঙ্গবন্ধুর লন্ডনগামী বিমান এবং অন্যান্য ব্যবস্থাপনা দায়িত্ব পালনকারী ‘পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স’ তৎকালীন প্রধান চৌধুরী লন্ডন পর্যন্ত পাকিস্তান সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে ওই বিমানে বঙ্গুবন্ধুর সাথে ছিলেন। মরহুম চৌধুরী তার ‘মোজাইক অব মেমোরী’  (Mosaic of Memory, Rahber Printers, Lahor, 1985) বইতে এই প্রসঙ্গে যা বলেছিলেন, তাতে বুঝা যায় আপনি সবকিছুরই সাক্ষী।
বঙ্গবন্ধুর লন্ডনগমনের পটভূমি সম্পর্কে এব ওই ভ্রমণে কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিচারণ করেছেন। ওই বইয়ের কিছু অংশ এখাতে তুলে ধরছি:

‘Flight to Freedom’

“Can a Boeing fly non-stop from Pindi to London?”  Asked Mr. Aziz Ahmad, the Minister of State for Foreign Affairs.” “Yes, if winds are not too unfavorable,” was my answer. “It looks like Sh. Mujibur Rahman might have to fly to London shortly, but it will have to be done in a manner that the word does not get out before he reaches London. I am afraid we’ll be able to give you only very brief notice.” Two or three days later, he rang up from Pindi early in the evening to say that the mission was ‘on’ and I should bring aircraft to Pindi around 10 P.M. At Karachi, we were to collect Mrs. Kamal Husain and her two children who were also to fly to London. Mr. Aziz Ahmad further told me to go to the State Bank (of Pakistan) where Mr. Ghulam Ishaq Khan, the Governor, would hand over a large sum of money to me in foreign exchange, which was to be brought to Pindi and given to Mr. Bhutto. The impression I gathered was that this was meant for Sh. Mujibur Rahman. I drove to the State Bank where Mr. Ghulam Ishaq Khan handed me a box containing a very large sum of money in the U.S. dollar. He wanted a receipt for it and asked me to count the money. I said, “Surely, you are not serious, how can I count such a large sum so quickly? Are you sure it has already been counted?” He said, he was. I said, “That is good enough for me,” and signed the receipt. I proceeded to Pindi, at the President’s House, handed over the box to Mr. Bhutto; also present at the time was Mr. Khar.

“Mr. Bhutto brought Mujibur Rahman and R. Kamal Husain to the aircraft just after midnight. They all boarded the aircraft together and there followed a very moving scene. The two leaders shook hands warmly, locked themselves in a lengthy embrace and Mujibur Rhaman kissed Mr. Bhutto on the cheek with tears in his eyes. It was very emotional and charged parting and we all felt that we were witnessing history being made. The Boeing 707 took off for London, planning to land at Geneva if refueling became necessary on the way. Initially, there was considerable tension on board the aircraft and we all felt uneasy. We didn’t know how our ‘guests’ would be disposed towards us and whether they would like to talk to us. Mujibur Rahman talked to Mrs.  Kamal Husain and asked how she and the children had been. I exchanged a few pleasantries with Dr. Kamal Husain. Then, dinner was served, every one relaxed visibly and the tension abated. I moved to up to the seat next to Mujibur Rahman and introduced myself. He responded very warmly and asked how PIA had fared during the war and if many aircrafts had been lost. I told him that the only loss was a Twin Otter aircraft on the ground at Dhaka and, but for the capture of some of our people stationed in East Pakistan, PIA had got away rather lightly and had been able to fly out the few aircraft located in East Pakistan. And, then Mr. Mujibur Rahman launched forth into a melodramatic monologue which went something like this.

“This man Yahya Khan has destroyed the country. Now we have Indians sitting in Dhaka — imagine Indians in Dhaka! If the Army had been able to hang onto even one district, I would have rallied my people, built a base, broken out of there and driven out the Indians out of my country. But, now everything has been lost. I don’t even know where to begin. But let me get back, I shall manage something. The Indians must be driven out first, everything else comes afterward.  I am the leader of the Bengal and my people will follow me anywhere. Look at Kamal Husain sitting there. He was in jail with me. A very clever boy. I picked him up. I got him elected, and now he will be a minister. My people love and will do anything for me. Bhutto is a good man. He saved my life twice. You must stand by him. We shall keep in touch. Don’t worry, I shall find some way of staying together. Yahya Khan had put me in jail and wanted me hanged. Now I shall have to say things to the Indians I don’t really mean.”

One did not know what to make of his pronouncements he spoke in slogans and seemed very egocentric, everything was I, I and I. His manner was that of a stage actor, heaving a deep sigh, shaking his head, rubbing his eyes, throwing his arms about and talking alternately in a loud or whispered tone. He seemed to be making a political speech to a mob. He talked in the vein of an agitator or rather than a statesman that he fancied himself to be. His gestures and arguments were shallow, revealing little maturity or intellect. One also had the feeling that he was saying things he felt we would like to hear, and perhaps had some slight “Breakfast was served early and I informed Sh. Mujibur Rahman that it would not be necessary to land for refueling and that we should be reaching London in about an hour. The steward brought along a few gifts we had put on board for the party at Karachi. To Mujibur Rahman I handed two smoking pipes and a small carpet woven as a prayer-mat. I said these gifts for him from PIA as a token of this momentous flight. He stood up, shook my hand and accepted the gift with effusive thanks. Holding out the prayer-mat he said, “On this, I shall pray for PIA and for you Air Marshal.” He then asked me to make sure that at London Airport he was received by the “Foreign Office People.” I said I would have a message sent to London Airport to this effect, which in fact was done. He was not satisfied with this and kept insisting that he should be met by representatives of the Foreign Office and by no one else.

“We landed at London around 6 A.M. and were parked some distance from the main terminal. Some airport officials boarded the aircraft and Mujibur Raman asked, “Are these people from the Foreign Office?” I answered, “Well, not quite, but they handle important visitors and will be taking you to one of the V.I.P. rooms where foreign officials should also arrive before too long.” He disembarked rather reluctantly and we all proceeded to a V.I.P. room. Here he asked me if we could help him ring up some friends, mostly at a small restaurant run by Bengalis. The restaurants must have been closed at this early hour and there was no response from any of them. He then desired to speak to Mahmud Haroon, who, he said, was a “family friend.” This number responded and Mr. Mahmud Haroon came on the line. I discreetly moved away so as not to overhear the conversation. Presently, some officials from Foreign Office arrived, as also some Bengali who had until recently worked at the Pakistan High Commission. Sh. Mujibur Rahman said to me, “Thank you very much for what you have done for me, Air Marshal. Now I will be met by people from ‘the Bengal Mission’. After all, I am their leader —  a man of the public. If you wish you can leave me now. Having completed the assignment and handed him over the British authorities, I saw no need to stay any further. So, I shook hands with him and left.” (Mosaic of Memory, PPS. 74-77)

জাফর এ. চৌধুরীর সাথে কথা বলতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু যা যা বলেছেন সেগুলোর মধ্যে কমপক্ষে বেশ ক’টির বাস্তবায়নের প্রমাণ আমাদের সামনেই রয়েছে:  ভারতীয় সৈন্যদেরকে বাংলাদেশ হতে সরে যাওয়া এবং ডঃ কামালকে মন্ত্রী বানানো। সম্ভবত তৃতীয় প্রমাণ হিসেবে লাহোরে অনুষ্ঠিত ওআইসি শীর্ষসম্মেলনে বঙ্গবন্ধুর অংশ নেয়াকে বলা যেতে পারে, যেখানে যাবার আগে বঙ্গবন্ধু ভারতের সাথে কোন পরামর্শই করেন নি। ভারত বঙ্গবন্ধুর এই উদ্যোগ কোনভাবেই মেনে নেয় নি, যেমনটি মেনে নেয়নি ভারতীয় সৈন্যদেরকে বাংলাদেশ হতে সরে  যেতে বলা কিংবা সশস্ত্রবাহিনী গড়ে তোলা।
বঙ্গবন্ধুর সাথে ভূট্টো তথা পাকিস্তান সরকারের কোন ধরনের  বুঝাপড়া হয়েছে তাও ডঃ কামাল হোসেন জানেন। তিনি জানেন বঙ্গবন্ধু তার বুঝপড়ার কোন কোনটি রক্ষা করেছেন আর কোন কোনটি করার সুযোগ পান নি। ডঃ কামাল জানেন  জাফর এ. চৌধুরী ভাষ্যমতে বড় আকারের বাক্সভর্তি বিশাল অংকের  ডলার যে দেয়া হয়েছিল সেই অর্থ কোথায় গেল?
আমরা জানি, নিরাপত্তাজনিত সংকট হতে আপনি মুক্ত নন। আপনি ছাড়া এই রহস্যাবৃত ইতিহাস বাংলাদেশের আর কেউ জানেন না। এই প্রসঙ্গে বেশ কিছু বই রয়েছে। জাতি আপনার কাছ থেকে অন্তত তেমন কিছু হলেও উপকৃত হতো। কিন্তু আপনি সেই দিকেও যান নি।  কবি নজরুলের কথায় প্রশ্ন: ‘নীরব কেন কবি?’
(কৈফিয়ত: এয়ার ভাইস মার্শাল (পরে এয়ার মার্শাল) ইংরেজী বয়ানে যা বলা হয়েছে তা বাংলায় অনুবাদ করার সময় পাই নি। কারণ ‘রানার নিউজ’এর চলতি সংখ্যা বৃহস্পতিবারের পরিবর্তে সোমবারে বের হচ্ছে। তবে আশা করি আল্লাহর রহমতে ভবিষ্যতে এর বাংলা অনুবাদ পাঠকদের সামনে নিয়ে আসবো। আসুন আমরা বলাই বলি: ডঃ কামাল দয়া করে মুখ খুলুন। *)
রচনাকাল: ডিসেম্বর ২১, ২০১৯
সৌজন্যে: রানার নিউজ, নিউইয়র্ক

PBC24